মার্কিন নাগরিক ম্যাথু অ্যারন ভ্যানডাইক ও ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে এক মাসের জন্য নিজ নিজ দেশে ফেরার অনুমতি দিয়েছেন দিল্লির একটি আদালত। তবে তাদের শর্তসাপেক্ষে ভারতে ফেরত আসতে হবে এবং জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) তদন্তের প্রয়োজনে ডাকলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে হবে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের বিশেষ বিচারক প্রশান্ত শর্মা ভ্যানডাইক ও ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমতি দেন। আদালতের শর্ত অনুযায়ী, এক মাস পর তাদের ভারতে ফিরতে হবে এবং বিদেশে অবস্থানের ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য এনআইএকে জানাতে হবে।
ভ্যানডাইক ও ছয় ইউক্রেনীয়কে চলতি বছরের ১৩ মার্চ ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করে। ভ্যানডাইককে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে এবং তিন ইউক্রেনীয়কে লখনউ ও আরও তিনজনকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ভারতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্র এবং মিয়ানমারভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্ত করছিল এনআইএ।
এনআইএর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তদন্তে তাদের মিয়ানমার যাওয়ার পথ, ড্রোনের ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে এনআইএ যে চার্জশিট দাখিল করে, সেখানে ভ্যানডাইক ও ছয় ইউক্রেনীয়ের বিরুদ্ধে ইউএপিএর ধারা না দিয়ে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর ২১ ও ২৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এসব ধারা ভারতে অননুমোদিত প্রবেশ এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত। এনআইএ আদালতকে জানিয়েছে, ইউএপিএ-সংক্রান্ত তদন্ত এখনো চলমান এবং প্রয়োজনে পরবর্তী চার্জশিট দেওয়া হতে পারে।
এরপর ভ্যানডাইক ও ছয় ইউক্রেনীয় আদালত থেকে ডিফল্ট জামিন পান। ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার পর তাদের দেশে ফেরার পথ তৈরি হয়। ভ্যানডাইকসহ সাতজনকে এক মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার সময় আদালত স্পষ্ট করে দেয়, তাদের বিদেশে অবস্থান তদন্ত বন্ধ করছে না এবং প্রয়োজন হলে এনআইএর সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে।
এদিকে ভ্যানডাইককে ঘিরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা তথ্য ও দাবি প্রকাশিত হয়েছে। তবে তিনি সিআইএর এজেন্ট ছিলেন কিংবা তার দেশে ফেরার পেছনে মার্কিন সরকারের বিশেষ চাপ ছিল—এমন দাবির স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। একইভাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কোনো কথিত ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার সঙ্গে তাকে যুক্ত করার দাবিও তদন্তাধীন অভিযোগের বাইরে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক